10+ ছাত্রদের জন্য ব্যবসা আইডিয়া

10+ ছাত্রদের জন্য ব্যবসা আইডিয়া

কথায় আছে , ছাত্র জীবন সুখের জীবন যদি না থাকতো পরীক্ষা। ঠিক তেমনি ছাত্র জীবন সুখের জীবন হবে। তখনই যখন আপনি লেখাপড়ার পাশাপাশি   ব্যবসা করবেন। ইনকামের পথ নিজে নিজেই তৈরি করে নিবেন। লেখাপড়ার পাশাপাশি ছাত্রজীবনে বিভিন্ন ব্যবসার আইডিয়া রয়েছে।

 নিম্নে আইডিয়া গুলি আপনাদের সামনে তুলে ধরা হলো। আশা করি সকলের কাছে আইডিয়াগুলো ভালো লাগবে।

ছাত্রদের জন্য ব্যবসা

কনটেন্ট রাইটিং

ছাত্রদের জন্য ব্যবসা হিসাবে কনটেন্ট রাইটিং অ্যাজেন্সি বা ব্যবসা করাটা বেশ লাভজনক। লেখার সময় ভাষাগত দক্ষতা, উপযুক্ত শব্দচয়ন, সাবলীল উপস্থাপন এসবকিছুই একজন কন্টেন্ট রাইটারের যোগ্যতা।

 বর্তমান সময়ে অনেক অনলাইন এবং অফলাইন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভালো কন্টেন্ট রাইটার খোজে তাদের প্রডাক্ট বা সার্ভিসকে লেখনীর মাধ্যমে ক্রেতার সামনে তুলে ধরার জন্য। আবার অনেক দেশি বিদেশি ওয়েবসাইট আছে যারা লেখক খোঁজে তাদের সাইটটিকে টিকিয়ে রাখার জন্য। 

এটি আসলে একটি বিশাল প্রতিযোগিতার জগৎ। এই জগতে ভালো করতে হলে, নিজেকে টিকিয়ে রাখতে হলে প্রেকটিস এর বিকল্প নাই।

 কন্টেন্ট লিখে আয় করার ওয়েবসাইট:

গ্রাফিক্স ডিজাইন

 গ্রাফিক্স ডিজাইন অনেকগুলো গুরুত্বপূর্ণ শাখার মধ্যে এটি একটি। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান তাদের প্রোগ্রামের জন্য পোস্টার, ফ্লাইয়ার বানিয়ে নেয়।

 আবার বিদেশি কোম্পানি গুলো আমাদের দেশ থেকে পোস্টার, ফ্লাইয়ার, ব্রুশিয়ার অর্ডার করে। 

আপনি যদি এই ফিল্ডে নিজেকে যোগ্য করতে চান, তাহলে কাজ শেখার বিকল্প নেই।

 রুচিসম্মত এবং আপডেট নলেজের মাধ্যমে যে কেউ সহজেই পোস্টার, ফ্লাইয়ার এবং ব্রোশের এর ডিজাইনার হতে পারে। 

•বিভিন্ন অনুষ্ঠানের ইভেন্ট প্ল্যান ও যাবতীয় কাজ সম্পাদন

 কোন ইভেন্ট নিয়ে পরিকল্পনা করা বাংলাদেশে সাধারন প্রফেশন নয়। কিন্তু এটি দিনদিন খুব জনপ্রিয় হচ্ছে।

 আপনি চাইলে বিভিন্ন ছাত্রদের পার্টি, জন্মদিন, অন্যান্য আনন্দ উৎসবে একজন অর্গানাইজার হিসেবে কাজ করতে পারেন।

 যারা ডেকোরেশন, পাশাপাশি প্রফেশনালি পুরো অনুষ্ঠানটিকে নিয়ন্ত্রণ করে। কোন বড় অনুষ্ঠান, আনন্দ-উৎসব সমগ্র কাজ নিয়ন্ত্রণ করেন। 

যাবতীয় কাজ গুলো সম্পাদন করে দিলেন। এতে করে আপনার cost- প্রাইস অনেক বেশি হবে। এমনকি ইনকাম হবে প্রচুর।

 •SEO করা শুরু করুন

 স্টুডেন্টদের জন্য, ছাত্রদের জন্য ব্যবসা করার ভাল আইডিয়া হলো এসইও এক্সপার্ট হয়ে কাজ করা। এসইও সম্বন্ধে না জানলে এ সম্বন্ধে পূর্ব-অভিজ্ঞতা ও এক্সপেরিয়েন্স সংগ্রহ করে নিন। SEO সম্বন্ধে পড়াশোনা করে, ভালোভাবে কোর্স নিন।

 তারপর সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন এর কাজ ভালোমতো রপ্ত করতে হবে। আর এ জ্ঞান ব্যবহার করে টাকা ইনকাম করতে পারবেন। একজন এসইও এক্সপার্ট এর ইনকাম মাসিক লক্ষাধিক পর্যন্ত যায়।

 আপনি চাইলে এসইও সেটআপ, কিংবা সার্চ ইঞ্জিন ইভুলেটর হিসেবে কাজ করতে পারেন।

 বর্তমানে এসইও এক্সপার্টদের ডিমান্ড খুব বেশি। যেকোন একটি ওয়েবসাইটের আর্টিকেলগুলো SEO করাতে পারলে ব্যাপক ইনকাম করা যায়।

 এর জন্য বিভিন্ন ফ্রিল্যান্সিং ওয়েবসাইটঃ ফাইবার অথবা বাংলাদেশী ওয়েবসাইট bwmshop এ কাজ করা যায়। 

আপনাকে গুগলের এসইও করাতে হবে। গুগল সার্চ ইঞ্জিন এর Term মাথায় রেখে লাগাতার একটি কন্টেন্ট র‍্যাংক করানোর জন্য কাজ করে যেতে হবে। এ সম্বন্ধে ভালোমতো পড়াশোনা, কোর্স কমপ্লিট করলে, ভালো জ্ঞান রপ্ত করতে পারবেন। 

•ক্রাফটিং

 নেশাকে পেশা হিসেবে বেছে নিতে ক্রাফটিং এর জুড়ি নেই। অনেক ছেলেমেয়েরই শখ থাকে কাগজ কেটে ফুল পাখি বানানো। 

অনেকে ক্রাফটিং এর মাধ্যমে বিভিন্ন ডেকোরেটিভ আইটেম বানাতে পারে। আমার এক ছাত্রীকে দেখতাম কাগজ কেটে খুব সুন্দর কাজ করত।

 জন্মদিন, বিয়ের অনুষ্ঠানে এগুলোর ভালো চাহিদা আছে।

 আমি আসলে আমার আর কোনো ছাত্রছাত্রীদের মাঝেই এই ইউনিক গুনটি দেখিনি। বাজার বিবেচনায়, কাজটির যথেষ্ট চাহিদা আছে আমাদের মার্কেটপ্লেসে। 

ছাত্রদের জন্য ব্যবসা তালিকাতে ছাত্রীদের জন্য এই ব্যবসা আইডিয়াটি। তবে, ছাত্ররাও চাইলে এই ব্যবসাটি করতে পারবে।

 • নিউজ রাইটার

 অনেক সংবাদপত্র, অনলাইন অফলাইন, যেকোনোটাই হতে পারে, ছাত্রদেরকে ক্যাম্পাস সংবাদাতা হিসেবে নিয়োগ দেয়।

 লেখালেখির দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা থাকলে এ ধরনের কাজ করা যায়। আবার কয়েকজন বন্ধু মিলে ক্যাম্পাস সংবাদপত্র খুলে ফেলা যায়, যেখানে স্থান পাবে ক্যাম্পাসের ছোট বড় ঘটনা।

 •প্রুফরিডিং

 বড় বড় গবেষণা কাজের পর অনেকেসময় প্রুফ রিডিং এর দরকার পড়ে।

 লেখক এই কাজটি নিজে করতে পারলেও, একজন প্রফেশনাল প্রুফরিডার কাজের মানকে অনেকাংশে বাড়িয়ে দেয়। ভাষাগত দক্ষতা এবং শাব্দিক প্রয়োগ এর জ্ঞান এক্ষেত্রে খুব গুরুত্বপূর্ণ।

 •ফ্রিল্যান্সার

 ফটোগ্রাফি, ভিডিও এডিটিং, পেইন্টিং, ব্লগিং এ ধরনের যেকোনো বিষয়ে ফ্রিল্যান্সিং এ কাজের সুযোগ আছে। ফ্রিল্যান্সিং এর মাধ্যমে শুধু দেশের ভেতরে নয়, দেশের বাইরেও কাজের সুযোগ আছে।

 ছাত্রদের জন্য ব্যবসা হিসাবে সবচেয়ে জনপ্রিয় ফ্রিল্যান্সিং। তবে, ফ্রিল্যান্সিং করার জন্য অবশ্যই স্কিল এবং কাজ করতে হবে।

 •ইউটিউবিং

 একটি ইউটিউব চ্যানেল খুলে নিন। ঠিক ব্লগিং এর মত আরেকটি উপায় হলো ইউটিউবিং। বর্তমানে ছাত্র-ছাত্রী, ছেলে-মেয়ে, নারী-পুরুষ সকলেই ইউটিউব এর মাধ্যমে ব্যাপক ইনকাম করছে।

 বাংলাদেশে ইউটিউব এর পরিসর পূর্বের তুলনায় অনেক বেশি বেড়ে গেছে। যদি আপনি অনলাইনে পড়াতে চান, তবে একটি ইউটিউব চ্যানেল তৈরি করতে পারেন।

শেষ কথাঃ

এই ছিল ছাত্র ভাইদের জন্য ব্যবসার আইডিয়া। লেখাপড়ার পাশাপাশি ছাত্রদের পরিশ্রম করা প্রয়োজন। কথায় আছে, পরিশ্রম সৌভাগ্যের চাবিকাঠ। আপনার কাজ যতই ছোট হোক না কেন, সেটাকে কখনো অবহেলা করা উচিত নয়। তাই ছাত্র ভাইদেরকে উদ্দেশ্য করে বলবো লেখাপড়ার পাশাপাশি নিজের ক্যারিয়ার গড়ার জন্য ব্যবসার আইডিয়া গুলি মনোযোগ সহকারে পড়বেন। আশা করি ছাত্র ভাইদের পোস্টটি ভালো লাগবে।

আরো পড়ুনঃ

 

tech-007

Leave a Reply

Your email address will not be published.