মধু খাওয়ার উপকারিতা ও ঔষধি গুন

মধু খাওয়ার উপকারিতা ও ঔষধি গুন

আজকে আমরা কথা বলবো মধুর উপকারিতা ও ঔষধি গুন নিয়ে। আমরা সকলেই জানি, মধু সবচেয়ে প্রিয় খাবার। মধু শুধু সুস্বাদু খাবারই নয় বরণ এটি ঔষধি গুন হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। বর্তমানে শীত মৌসুম চলতেছে এই সময়টা মধুর চাহিদা দ্বিগুণ আকারে বৃদ্ধি পাবে। তার কারণ হচ্ছে শীতের সময় মধু খেলে শীত খুবই কম লাগে। 

প্রাচীন সময়ে জন্মের পর নানা দাদিরা মুখে মধু দেয় নাই এমন লোক খুঁজে পাওয়া কঠিন। পুরনো কাল থেকে মানুষ প্রাকৃতিক খাদ্য হিসেবে, মিষ্টি হিসেব, চিকিৎসা ও সৌন্দর্য চর্চা সহ নানা ভাবে মধুর ব্যবহার করে আসছে। শরীরের সুস্থতায় মধুর উপকারিতা অপরিসীম। 

 মধুর উপকারিতা ও ঔষধি গুন

আজকে আমাদের আলোচনার মূল টপিক হচ্ছে, মধুর গুনাগুন এবং এর উপকারিতা। মধু আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য কতটুকু উপকারিতা করে। এ বিষয় নিয়ে আমরা আজকে আলোচনা করব। মধুর উপকারিতা ও ঔষধি গুন নিম্নে দেওয়া হলো। শুরুতেই আমরা আলোচনা করব মধুতে কি কি ভিটামিন এবং পুষ্টি উপাদান রয়েছে।

ভিটামিন এবং পুষ্টি উপাদান

মধুতে সাধারণত রয়েছে ,Vitamin B1,Vitamin B2, Vitamin B3, Vitamin B5, Vitamin B6, এছাড়াও রয়েছে Zinc, Copper, Iodine, এর মত উপাদান। মধুতে আরো রয়েছে ৪৫টি খাদ্য উপাদান।  সুক্রোজ গ্লুকোজ ছাড়াও রয়েছে এমাইনো এসিড লবণ ও এন কাইম। উল্লেখ্য আছে যে ২৮৮ ক্যালোরি পাওয়া যায় ১০০ গ্রাম মধু থেকে। এবং মধুতে কোন চর্বি বা প্রোটিন নেই। মধুতে আরো আছে অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল।ও অ্যান্টি মাইক্রোবিয়াল উপাদান। যা আমাদের শরীরের বাহিরে এবং অভ্যন্তরে জীবাণুর বিস্তার প্রতিরোধ করে। 

মধু খাওয়ার উপকারিতা

মধু একটি খুব উপকারী খাদ্য,পণ্য ও ঔষধ। এটি হচ্ছে আল্লাহ প্রদত্ত এক অপূর্ব নেয়ামত। প্রাচীনকাল থেকে মানুষ প্রাকৃতিক খাদ্য হিসেবে সৌন্দর্য চর্চা সহ নানা ভাবে মধুর ব্যবহার করে আসছে। বলা হয়ে থাকে মৃত্যু ব্যতিত সকল রোগের মহা ঔষধ হল মধু। এর উপকারিতা অপরিসীম। নিম্নে এর উপকারিতা তুলে ধরা হলো।

১। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়

.২।ক্যান্সার প্রতিরোধ করে

৩।দৃষ্টিশক্তি ও স্মরণশক্তি বৃদ্ধি করে.

৪।দাঁত পরিষ্কার ও শক্তিশালী করে

৫।মধুর ক্যালরি রক্তের হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ বাড়ায় ফলে রক্তবর্ধক হয়

৬। দুর্বল শিশুদের মুখের ভেতর পচনশীল ঘা এর জন্য খুবই উপকারী

৭।Honey কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে

৮।শরীরের বিভিন্ন ধরনের নিঃসরণ নিয়ন্ত্রনে সহায়তা করে এবং উষ্ণতা বৃদ্ধি করে

৯। রক্ত পরিশোধন করে 

১০।ক্ষুদা হজম শক্তি ও রুচি বৃদ্ধি করে 

১১।যারা রক্ত স্বল্পতায় বেশি ভোগে বিশেষ করে মহিলারা তাদের জন্য নিয়মিত মধু সেবন অত্যন্ত ফলদায়ক

১২।শরীর ও ফুসফুসকে শক্তিশালী করে

১৩।জিহ্বার জড়তা দূর করে

১৪।বাতের ব্যথা উপশম করে

১৫।মাথা ব্যথা দূর করে

১৬।মুখের দুর্গন্ধ দূর করে

১৭।শিশুদের দৈহিক গঠন ও ওজন বৃদ্ধি করে

১৮।শারীরিক দুর্বলতা দূর করে এবং শক্তি-সামর্থ্য দীর্ঘস্থায়ী করে

১৯।মধু খাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীরের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায় ফলে শরীর হয়ে ওঠে সুস্থ ও সতেজ এবং কর্মক্ষম

২০। মধুতে রয়েছে এন্টিঅক্সিডেন্ট ক্ষমতা, যা দেহকে নানা ঘাত-প্রতিঘাতের হাত থেকে রক্ষা করে বার্ধক্য ঠেকাতে সাহায্য করে। 

শেষ কথাঃ

আশা করি মধু খাওয়ার নিয়ম ও উপকারিতা যে পোস্ট লেখা হলো সকলের কাছে ভালো লাগবে। মূলত মধু খাওয়ার নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা নেই। এমনিতেই আপনি প্রতিদিন খেতে পারবেন। ইচ্ছে হলে সঙ্গে কালোজিরা নিতে পারেন। এছাড়া প্রতি রাতে ১ চামচ করে খেয়ে নিতে পারেন। ইচ্ছে হলে দুধের সঙ্গে মিশিয়ে খেতে পারেন। এতে করে আপনার শরীরের উপকার হবে। 

 

tech-007

Leave a Reply

Your email address will not be published.